বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার জন্য সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ রয়েছে। ঋণ কর্মসূচির আওতায় আগামী জুনে চুতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ পাওয়ার জন্য বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ সময়ের মধ্যে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রতিবেদকদের সঙ্গে বাজেট প্রণয়নের নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের বিষয়ে অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিরাট আশ্বাস দেব না, যেটা বাস্তবায়ন করা যাবে না। বাজেটে কিছু কিছু মধ্যমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি বিষয় থাকবে। সেটা ফুটপ্রিন্ট হিসেবে থাকবে। আমরা মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বেসরকারি খাতকে মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করছি। আগে আড়াইশ থেকে তিনশ পাতা হলেও এবার ৫০ থেকে ৬০ পাতায় বাজেটের মূল বক্তব্য শেষ করব। ডিরেক্ট টু দ্য পয়েন্ট কথা বলব। আগের মতো ভূমিকা, অবতারণা এসব কিছু থাকবে না। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আমরা এখন পর্যালোচনা করছি। মেগা প্রজেক্ট (প্রকল্প), যেটাকে আমি বলি মনুমেন্ট প্রজেক্ট, এগুলো আমরা বাদ দিয়ে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এ ধরনের প্রকল্পে বেশি জোর দেব। এগুলো আবার একেবারে ছোটও না। এক একটা ৫০০-৬০০ কোটি টাকার। অবকাঠামো, নদী শাসন এ ধরনের বিষয় আছে। এর সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দেয়া হবে। আমরা প্রতিবন্ধী ও নারীদের ভাতা কিছুটা বাড়াব। তবে ৪-৫ গুণ ভাতা বাড়বে না, এত সম্পদ আমাদের নেই। সার ও বিদ্যুতে ভর্তুকি থাকবে। কৃষকে আমরা যে ভর্তুকি দেই, সেটা তেমন কিছু না। এ ভর্তুকি আমরা অব্যাহত রাখব।
নতুন বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভয় কাজ করছে উল্লেখ করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগামী বাজেটে বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহী করা হবে। কারণ, বেসরকারি খাত ভালো করলে সরকারের রাজস্ব আহরণও বাড়বে। অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, এখন বিনিয়োগ করলে পরবর্তীতে তাদের সমস্যা হতে পারে। আমি তাদের বলছি, আপনারা তো আর সালমান এফ রহমান হতে পারবেন না। তারপরও তাদের মধ্যে সংশয় আছে।
সবাইকে কর দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি এ সেবা পেলাম না, ওই সেবা পেলাম না এসব চিন্তা না করে সামাজিক সেবার কথা চিন্তা করে আপনারা কর দিন। কর দেবেন দেশের মঙ্গলের জন্য। এবারো কিছু শুল্ক যৌক্তিকীকরণ করা হবে। ডিজিটালাইজেশন করব যাতে করে মুখ দেখাদেখি না হয়। মুখ দেখাদেখি হলেই কেবল টেবিলের নিচ দিয়ে হাত নাড়াচাড়া করে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বিবেচনার জন্য সংগঠনটির ২৮টি প্রস্তাবনার নানা দিক তুলে ধরেন।